কাজ, সৃজন ও মানবতাতেই অমর শিল্পী মতলুব আলী
"স্মরণসভায় বক্তারা বললেন—নীরব থেকেও বহুমাত্রিক অবদানে অনন্য এক সাংস্কৃতিক মানুষ।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ডিন, অধ্যাপক শিল্পী মতলুব আলীর স্মরণে আলোচনা, স্মৃতিচারণা ও সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ রোববার সন্ধ্যায় শিশু একাডেমির শিশু জাদুঘর মিলনায়তনে।

তাঁরই প্রতিষ্ঠিত মানব শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি গোষ্ঠীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মতলুব আলী স্মরণে কিছু কথা, কিছু গান’ অনুষ্ঠানে তাঁকে স্মরণ করা হয় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

আলোচনায় বক্তারা একবাক্যে বলেন, মতলুব আলী ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী—চিত্রশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, লেখক, গবেষক ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক।
ইমেরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, চিত্রকলার পাশাপাশি লেখালেখি ও গবেষণায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়ে তাঁর গবেষণা।
ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী স্মরণ করেন একজন মেধাবী ছাত্র, দায়িত্বনিষ্ঠ শিক্ষক ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গণসংগীতের মাধ্যমে গণমানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছড়িয়ে দিতে মতলুব আলীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক; তাঁর লেখা ‘লাঞ্ছিত নিপীড়িত জনতার জয়’ হয়ে উঠেছে কালজয়ী সংগ্রামের গান।

আলোচনার পাশাপাশি তাঁর লেখা গান পরিবেশন, চিত্রকর্ম ও গ্রন্থ প্রদর্শনী এবং জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়—মানব মুক্তির যে গান তিনি রেখে গেছেন, তাতেই শিল্পী মতলুব আলী চিরস্মরণীয়।
