"লাল-সবুজ প্রতীকে বরেণ্য শিল্পীদের স্মৃতি—লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগে প্রশ্ন: আধুনিকায়ন কি শুরু হবে প্রতীক থেকে, নাকি স্বচ্ছতা ও সংস্কার থেকে? ডিজি'র আশ্বাস- ‘ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেই পরিবর্তন’।"
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ঐতিহ্যবাহী লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। বর্তমান লোগোটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়চিহ্ন নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ইতিহাস এবং বরেণ্য শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতার স্মৃতি। শিল্পী ইমদাদ হোসেন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে লোগো নির্মাণে ভূমিকা রাখেন; এতে শিল্পী কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পভাবনারও সম্পৃক্ততা রয়েছে। ১৯৮০ সালে রঙিন সম্প্রচারের যুগে প্রবেশের সময় মুস্তাফা মনোয়ার লোগোটিকে নতুন রূপ দেন। ফলে চার দশকের বেশি সময় ধরে লাল সূর্য ও সবুজ বেষ্টনীর প্রতীকটি কোটি দর্শকের আবেগের অংশ হয়ে আছে।
বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন বলেছেন, "প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; তবে মানুষ না চাইলে তা পরিবর্তন করা হবে না এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
কিন্তু উদ্যোগটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বরেণ্য ব্যক্তিরাও। সাবেক উপমহাপরিচালক খ ম হারুনের মতে, ঐতিহাসিক লোগো অক্ষুণ্ণ রেখেই আধুনিক করা যেতে পারে; বরং অনুষ্ঠান, দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষণ, শিল্পী নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনায় সংস্কার জরুরি।
সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি করে মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের পরামর্শ দিয়েছেন।
নাট্যকার শাকুর মজিদের প্রশ্ন—লোগো বদল নয়, আগে বিটিভির ‘চরিত্র’ বদলানো দরকার।
অভিনেত্রী আলিফ আলাউদ্দিনও প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বিটিভির লোগো কেন বদলাতে হবে?’
এখন তাই স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে। লোগো পরিবর্তনের কারণ, ব্যয়, সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিয়োগ, শিল্পী নির্বাচন, অনুষ্ঠান নির্মাণ, সম্মানী, ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে—যাতে আধুনিকায়ন কোনো বিতর্কিত প্রক্রিয়ার আড়াল না হয়।
বিটিভির সংস্কার রোডম্যাপে তাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ঐতিহ্য রক্ষা, স্বচ্ছ প্রশাসন, দক্ষ জনবল, আধুনিক সংবাদ ও অনুষ্ঠান, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং দর্শকবান্ধব সম্প্রচার।
লোগো বদলানো যাবে—কিন্তু বিটিভির ইতিহাস, স্মৃতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা যেন বদলে না যায়।