
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের ১৫ মাস পরও বিটিভিতে রয়ে গেছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ক্ষমতাশালী দোসরদের এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট। এনএসআই, দুদক এবং বিটিভির নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ মিললেও রহস্যজনক কারণে একটিরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে—এই চক্র তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে লালফিতার আড়ালে সব প্রতিবেদন আটকে রেখেছে।
সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম, যিনি সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পে কারচুপি করে ঠিকাদারকে অনিয়মিত বিল দেন। দুদক তার সম্পদের হিসাব তলব করলেও তিনি এখনো উচ্চপদে বহাল।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সফির হোসাইন—যার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে—তাকেও সরানো হয়নি।
এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সেলিম—বহুল আলোচিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে পরিচিত—অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর পদ অক্ষুণ্ন রয়েছে। ডেপুটি ডিরেক্টর নিউজ ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ এবং অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌস-এর বিরুদ্ধেও তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও তারা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিবেদনের সূত্র জানায়—এই চক্র এখনো পতিত সরকারের পলাতক প্রভাবশালীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারোরই মন্তব্য পাওয়া যায়নি—একাধিক ফোনকল, বার্তা ও অনুরোধ সত্ত্বেও।

বিটিভির শিল্পী-কর্মীরা বলছেন—“অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে, কিন্তু বিটিভি এখনো দুর্নীতিমুক্ত হয়নি।”
সূত্র: এনএসআই তদন্ত প্রতিবেদন, দুদক অনুসন্ধান নথি, বিটিভি বিভাগীয় তদন্ত রিপোর্ট, যুগান্তর অনুসন্ধান।