https://youtu.be/kAQEyI_Mfuk?si=ZtH82ZLZhsGZMXKR
দুদকের হাতে দোষী প্রমাণিত কর্মকর্তাদের মানববন্ধন এবং সচিবালয়ের নীরবতা কি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে?
২০০০ সালের হাইকোর্টের রুলে বলা হয়েছিল—
“সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন রেডিও–টিভি অটোনমি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।”
দীর্ঘ দুই দশক পর, ২০২৫ সালে সরকার জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেয়। বিটিভি, বেতার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে একীভূত করার জন্য পাঁচ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং স্বায়ত্তশাসনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, হঠাৎই এটি থমকে যায়।
অনুসন্ধানে উঠে আসে—বিটিভির দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তাদের ছত্রছায়ায় সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে সাম্প্রতিক মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছিল শিল্প–সংস্কৃতি অঙ্গন প্রশ্ন তুলছে—দুদক ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দোষী প্রমাণিত কর্মকর্তাদের মানববন্ধনের ফলে কি স্বায়ত্তশাসন আটকে গেছে?
জাতীয় সম্প্রচার প্রণয়ন কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন—
“আমরা বিটিভি, বেতার ও বাসসকে একীভূত করে স্বায়ত্তশাসনের সব রূপরেখা তৈরি করেছি। আমার জানা মতে গেজেট প্রকাশ হওয়ার সব প্রস্তুতি ছিল। কেন এটি আটকাল, তা আমার কাছে বিস্ময়ের।”
“বাংলাদেশ সৃজনশীল শিল্প-সংস্কৃতি পরিষদ এর আহ্বায়ক
খালিদ খলিল বলেন—
“স্বায়ত্তশাসন চূড়ান্ত হওয়ার পথে দুর্নীতিবাজদের মানববন্ধন যদি সরকারের সিদ্ধান্তকে থামাতে পারে, তবে এটি সরকারের দুর্বলতার নগ্ন প্রমাণ। যে কর্মকর্তারা দুদকের হাতে দোষী প্রমাণিত, তারা এখনও পদে বহাল। প্রশ্ন হলো—চাকরিবিধি লঙ্ঘনের এই মানববন্ধনের জন্য কি কেউ দায়ী হবে না?”
তথ্য উপদেষ্টা ও তথ্য সচিবের মতামত নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে; কাঁটাতারের গণ্ডি পার করে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তথ্য সচিব সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন না, এমনকি সম্পাদক ফোন করলে রিসিভ করেন না। বিটিভির সূত্র জানায়—তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের জালে আটকে পড়েছেন, যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।
“বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও শিল্পী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসিম উদ্দিন বলেন—
“দুর্নীতিবাজ ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের চাপ স্বায়ত্তশাসনের পথে বড় অন্তরায়। প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি উভয়ই মুক্ত হতো।”
স্বায়ত্তশাসিত বিটিভি–বেতার হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গণমুখী, যেখানে সংবাদ ও শিল্প–সংস্কৃতির প্রকাশ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে। জনগণ পাবে প্রকৃত জাতীয় গণমাধ্যমের অধিকার।
হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থেকে কমিটির রূপরেখা ও সরকারের প্রস্তুতি—সব কিছু থাকা সত্ত্বেও গেজেট থেমে যাওয়া এবং কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, সচিবের নীরবতা প্রমাণ করছে—স্বায়ত্তশাসনের বাস্তবায়ন এখন সরকারের অশুভ প্রতিরোধ ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ছায়ায় আটকা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি-চর্চার ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ। Part 1