
“স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে রাষ্ট্রনায়কোচিত দায়িত্ব—এক সংগ্রামী জীবনের বিদায়ে জাতি শোকাহত”

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গণতন্ত্রের এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অভিভাবককে। আজ মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোরে আনুমানিক ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশেষ ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা জাতির মনে। এটি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণ নয়; এটি একটি রাজনৈতিক যুগের অবসান।
বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেত্রী হয়ে ওঠার পেছনে ছিল ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত বেদনার শক্ত রূপান্তর। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানোর পর তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি বেছে নেননি; বরং শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে জাতির অধিকার রক্ষার সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করেন। সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি রাজপথে অবিচল থেকেছেন টানা নয় বছর। গ্রেপ্তার, নির্যাতন, রাজনৈতিক চাপ—কিছুই তাঁকে আপসের পথে নিতে পারেনি।
১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে তিনি প্রমাণ করেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট ও আপসহীন। যেখানে অনেকেই সামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছিল, সেখানে খালেদা জিয়া রাজপথকেই বেছে নেন। এই অনমনীয় অবস্থানই তাঁকে “আপোষহীন নেত্রী” হিসেবে ইতিহাসে স্থায়ী আসন দেয়।
এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে ক্ষমতায় এসে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্রনায়কোচিত দায়িত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ক্ষমতায় কিংবা ক্ষমতার বাইরে—সব সময়ই তিনি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন থেকেছেন।
আজ তাঁর ইন্তেকালে সেই ভালোবাসাই রূপ নিয়েছে অশ্রুতে।
আমার টেলিভিশন পরিবার এর পক্ষ থেকে আমরা গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আল্লাহ তায়ালা যেন বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও জাতিকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করেন।
ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।