
অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ || তারেক রহমানের নিজের কোনো বাড়ি নেই, নেই ব্যক্তিগত গাড়িও: অভিযোগের আড়ালে যে সত্য।
“ভাড়া নয়, উত্তরাধিকার—ব্যক্তিগত নয়, দলীয়: তথ্য জানলে রাজনীতি আর সন্দেহ এক থাকে না।”
রাজনীতির মাঠে মতভেদ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তথ্যের জায়গায় যদি কুয়াশা জমে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, পুরো সমাজের বোধবুদ্ধিকে ঘিরে। তারেক রহমানকে নিয়ে এমনই দুটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—তিনি কি বাড়ি ভাড়া দেন? আর যে দামি গাড়িতে চলেন, সেটি কি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি?
আমার টেলিভিশন এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের House No. 196—যেটিকে ঘিরে নানা জল্পনা—তা আদৌ তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোনো বাড়ি নয়। ১৯৮১ সালে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া এই বাড়িটি পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে রেজিস্ট্রেশন হয়। বর্তমানে তারেক রহমান সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করছেন। অর্থাৎ এখানে ভাড়া বা ব্যক্তিগত সম্পদ লুকোনোর কোনো গল্প নেই—এটি একজন মায়ের নামে থাকা পারিবারিক বাসভবন মাত্র।
গাড়ির বিষয়টিও একইভাবে ভুল ধারণায় আচ্ছন্ন। বহুল আলোচিত Toyota Land Cruiser Prado কোনো ব্যক্তিগত বিলাসবহুল বাহন নয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BRTA)-র নথি অনুযায়ী গাড়িটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নামে নিবন্ধিত। এটি দলীয় প্রয়োজনে আমদানি করা একটি যান, যার রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয় বহন করে দল নিজেই। সুতরাং গাড়িটির মালিকানা তারেক রহমানের নামে নয়—এটি একটি সাংগঠনিক সম্পদ।
বাড়ি কিংবা গাড়ি—কোনোটিই তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মালিকানার তালিকায় পড়ে না। অথচ এই দুই বিষয় নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। রাজনীতি নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, থাকা উচিতও। কিন্তু তথ্যকে বিকৃত করে সন্দেহ তৈরি করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির লক্ষণ নয়।
তথ্য জানলে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মেলে।
আর সত্য জানলে—গুজব নিজেই নীরব হয়ে যায়।