October 24, 2026, 5:11 am
শিরোনাম :
ফেসিয়াল প্লাস্টিক সার্জারি: চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মেলবন্ধন বিটিভি: ​চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিচার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ ছাড়া বিটিভির আধুনিকায়ন কেবলই অর্থের অপচয়  শিশুর হাসিতে ফিরুক আত্মবিশ্বাস: প্লাস্টিক সার্জারিতে নিখুঁত রূপ পাচ্ছে বিকৃত ক্ষতচিহ্ বিটিভি কর্মীর মৃত্যু, তিন মাসের বেতন বকেয়ার প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কি লাল ফিতার ফাঁদে? তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার অপসারণ দাবি: বিটিভি বাঁচাও ও সমমনা জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি মেধা বনাম আমলাতন্ত্র: বিটিভির ডিজির ক্ষমতা খর্বের নেপথ্যে কী? শিল্পকলা একাডেমিতে মিউজিক্যাল চেয়ার: রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ, সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন “সাংবাদিকরা বিত্তবান হতে চায় না, চায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন”— জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যকে সাধুবাদ, পার্থর দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষা শিলংয়ে জন্ম, চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিক যোগ—যে ব্রিটিশ উদ্ভাবক বদলে দিলেন টাকা তোলার ইতিহাস! ​বিটিভির জন্য বড় দুঃসংবাদ: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজ মনিরুলই হতে চলেছেন প্রধান প্রকৌশলী!
Notice :

২৭ ফ্ল্যাট, কোটি টাকার গোপন সম্পদ—দুদকের জালে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রভাবশালী কর্মকর্তা

মাহমুদুল ইসলাম || সিলেট জেলা প্রতিনিধি || আমার টেলিভিশন

“সাময়িক বরখাস্ত, একাধিক মামলায় জড়িত—দুর্নীতির ‘শিকড়’ কতদূর? জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন”

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে আবারও বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার মালিকানায় রয়েছে অন্তত ২৭টি ফ্ল্যাট এবং প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ, যার বড় অংশই বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে সরকার তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে, যা প্রশাসনিক শুদ্ধতার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক মামলা ও চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে। আইনি কাঠামোর আওতায় এই অভিযোগগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারার অধীনে বিচারযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া, আলোচিত আরেকটি মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জন্য ভুয়া পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তার অভিযোগেও তিনি আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ উপার্জিত অর্থের একটি অংশ ‘কালো টাকা’ থেকে ‘সাদা’ করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতির দৃষ্টান্ত নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে, গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনবিশ্বাস উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক।

বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে—সরকার ঘোষিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি কি বাস্তবেই কার্যকর হচ্ছে, নাকি কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে কেবল অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

শেষকথা:

এই ঘটনা প্রমাণ করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলেও ‘রাঘববোয়াল’দের ধরতে হলে প্রয়োজন ধারাবাহিক, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত। এখন দেখার বিষয়—আইনের সঠিক প্রয়োগে এই মামলাটি দৃষ্টান্তমূলক পরিণতি পায় কি না।