
“আমার টেলিভিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—“বাংলা মডার্ন মিট প্রসেসিং এন্ড এগ্রো লিমিটেড” নামের আড়ালে সুপরিকল্পিত প্রতারণা। কাগজে বৈধতা, ভেতরে প্রতারণা: শত কোটি টাকার জাল—আহসান হাবিব চক্রের ভয়ংকর উত্থান। বিনিয়োগের ফাঁদ, ভুয়া কোম্পানি, মামলা, খুনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে এক অন্ধকার নেটওয়ার্ক; তদন্তে ‘আমার টেলিভিশন’।”

ঢাকার অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—আহসান হাবিব: (পিতা মো: আ: হাতেম, স্থায়ী ঠিকানা পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানা, বর্তমান ঠিকানা অজ্ঞাত, কেননা ঘন ঘন বাসা এবং মোবাইল ফোন পরিবর্তন) নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতারণার কৌশল- বৈধতার মুখোশে সুপরিকল্পিত ফাঁদ:
অনুসন্ধানে জানা যায়, “বাংলা মডার্ন মিট প্রসেসিং এন্ড এগ্রো লিমিটেড” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হতো।
প্রতারণার কৌশল ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত—
ব্যাংক চেক, জমির কাগজপত্র, এমনকি ডিড অব এগ্রিমেন্ট তৈরি করে বিশ্বাস অর্জন, উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি, সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকারী পরিচয় ব্যবহার।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সবকিছুই এতটাই “আইনসম্মত” দেখানো হতো যে অনেকেই সহজেই প্রতারিত হয়েছেন।
মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অভিযোগের পাহাড়;
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে ঢাকা সহ দেশের একাধিক থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে যা আমার টেলিভিশনে সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ঘন ঘন ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করছেন ফলে ও অভিযুক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে যোগাযোগ স্থাপিত হলে তার মতামত তুলে ধরা হবে।
খু*নের অভিযোগ: তদন্তে নতুন মাত্রা:
আমার টেলিভিশনের অনুসন্ধানে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে—
এক ভুক্তভোগী তার পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মামলা ও তদবির করলে, তাকে ভা*ড়াটিয়া খু*নি দিয়ে হ*ত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমার টেলিভিশন বিষয়টির উপর সত্যতা যাচাই অব্যাহত রেখেছে।
খিলগাঁও ভাটারা রামপুরা পল্টন পাবনা সদর থানায় একাধিক মামলার সন্ধান :
আমার টেলিভিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—প্রতারক আহসান হাবিব এবং তার সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধে খিলগাঁও, ভাটারা, রামপুরা, পল্টন এবং পাবনা সদর থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে মূলত বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ানো, প্রতারণা ও ভুক্তভোগীর ক্ষতি সংক্রান্ত অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এসব মামলা এখনও তদন্তাধীন, এবং অভিযুক্ত প্রতারক ঘন ঘন ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকা কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হ*ত্যাকা*ণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আমার টেলিভিশন হ*ত্যাকা*ণ্ডের মামলার বিষয়টির উপর অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। সত্যতা যাচাই করা গেলে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আমার টেলিভিশন হ*ত্যাকা*ণ্ডের বিষয়টি বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছে।
সহযোগীদের ভূমিকা: বিস্তৃত নেটওয়ার্ক:
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই প্রতারণা চক্রে একাধিক ব্যক্তি জড়িত আছেন। তাদের মধ্যে স্ত্রী রহিমা খাতুন, বড় বোন ছালমা খাতুন, ভাগিনা ছাব্বির হোসেন এর নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এছাড়াও, কোম্পানির একজন মহিলা পরিচালক লায়লা শারমিন নামের একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার করার লোভনীয় প্রস্তাব করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতে জড়িত আছেন বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে এর কিছু সত্যতা উঠে এসেছে। তবে আমার টেলিভিশন লায়লা শারমিনের বিষয়টি আরো অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে ভাটরা থানার জনৈক সাব ইন্সপেক্টর এর সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রয়োজনে ভুক্তভোগীদের ভাই ভীতি প্রদর্শন করে থাকে যা একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
সরবরাহ ব্যবসায় প্রতারণার অভিযোগ:
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন সীমান্ত ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিজিবি’র বিভিন্ন সেক্টরে খাদ্য ও রেশন সরবরাহের কাজ সুকৌশল ও সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে বাগিয়ে নেন তিনি। তবে পরবর্তীতে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে কিছু সেক্টরে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সাম্প্রতিক সময়ে একটি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহ কাজ নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
ফুটপাত থেকে ‘কোটি টাকার মালিক’: এক রহস্যময় উত্থান:
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রতারক আহসান হাবিব এর জীবনের এক নাটকীয় পটভূমি—
শৈশবে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, এতিমখানায় বেড়ে ওঠা, মাদ্রাসা জীবন থেকে বের হয়ে ফুটপাতে ব্যবসা—
এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহী, ঢাকা ও সাভার এলাকায় তার নামে ফ্ল্যাট ও জমির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ:
আমার টেলিভিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোটি টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন—
“সব কাগজপত্র ঠিক থাকায় আমরা বুঝতেই পারিনি এটি একটি প্রতারণা।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রতারণা চক্র দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে আরও বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
সতর্কতা বার্তা:
বিনিয়োগের আগে যাচাই করুন, কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত না হয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করুন, অস্বাভাবিক লাভের প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে থাকুন।

উপসংহার:
আহসান হাবিব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং কিছু মামলা আদালতে চলমান ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
আমার টেলিভিশন এই বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।