
বিশেষ ফলোআপ প্রতিবেদন:
“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘সিকিউরিটি রিজেকশন’ লুকিয়ে প্রায় ৩মাস সময় কর্মহীন থেকে সরকারি বেতন তোলার জালিয়াতি; নতুন জিএম-কে অন্ধকারে রেখে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্পর্শকাতর স্থানে বাচ্চুকে ডিউটি দেওয়ার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র”
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সীমাহীন দুর্নীতি, চরম প্রশাসনিক অরাজকতা আর লুটপাটের মাধ্যমে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-কে যে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তা পুনর্গঠন ও সংস্কারের লক্ষ্যে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।
বিটিভির হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের দাবিতে এদেশের প্রথিতযশা গুণী শিল্পী সমাজ, কলাকুশলী এবং গণমাধ্যম কর্মীরা একযোগে যে যার অবস্থান থেকে প্রতিনিয়ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও শিল্পী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে চলমান এই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক, দেশের চার দশকের প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ এক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে বিটিভির ক্যামেরাম্যান (চিত্রগ্রাহক গ্রেড-২) এ বি এম নুরুল ইসলাম বাচ্চু নিজের অপকর্ম আড়াল করতে এবং আইনি ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে রামপুরা থানায় একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন জিডি (সাধারণ ডায়েরি) দায়ের করেছেন—যা স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ এবং এদেশের শিল্পী সমাজের যৌক্তিক আন্দোলনের ওপর এক চরম কুঠারাঘাত।
নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই এই মিথ্যা জিডির ঢাল:
এই চিত্রগ্রাহকের পাহাড়প্রমাণ প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং বিটিভি কর্তৃপক্ষকে ধোঁয়াশার মধ্যে ফেলে কর্মস্থলে হাজির না থেকেই ম্যানুয়াল হাজিরা খাতায় (দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট অকেজো থাকার সুযোগ নিয়ে) স্বাক্ষর করে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করার তথ্যনির্ভর এবং তথ্যসূত্র ভিত্তিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম “আমার টেলিভিশন”-এ প্রকাশিত হয়।
জানা যায়, আমার টেলিভিশনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ নীতি মেনে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সাথে দীর্ঘ ৩৭ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড কথা বলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি সামনাসামনি এসে তথ্যপ্রমাণসহ বক্তব্য দেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে তিনি ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে গা-ঢাকা দেন।
বাচ্চুর নিজের চিঠিতেই জালিয়াতির অকাট্য স্বীকারোক্তি!
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে বিটিভির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর নুরুল ইসলাম বাচ্চুর নিজের স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্রে (যার ডায়েরি নম্বর ১৫৬ এবং জিএম দপ্তরের ডায়েরি নম্বর ৫৮৭৮, তারিখ: ১৩ মে ২০২৬) জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। উক্ত আবেদনপত্রে বাচ্চু নিজেই স্বীকার করেছেন যে—গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং- ১৫.৫৪.৩০২৫.০০১.০২১.১৮.০০০১.২৩.৩৭৯) তাকে সংবাদ কাভারেজের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল এবং ০২ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি সেখানে যোগদানপত্র প্রেরণ করেন। এরপর ০৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিপিএস-১ জনাব জাহিদুল ইসলাম রনি তাকে তেজগাঁও কার্যালয়ে ডেকে নেন এবং সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের জন্য ১টি ফরম হাতে দিয়ে বলেন, পরবর্তী ফোন পেলে ফরমটি পূরণ করে নিয়ে আসতে।
বাচ্চু তার চিঠিতে নিজেই আরো স্বীকার করেছেন, এরপর দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস চললেও তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা প্রেস উইং থেকে আর ডাকা হয়নি এবং কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নুরুল ইসলাম বাচ্চু অশুভ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিটিভি কর্তৃপক্ষের নিকট গোপন রাখেন বলে প্রতীয়মান। অনুসন্ধানে খোদ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নুরুল ইসলাম বাচ্চুর অতীত নেতিবাচক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ট্র্যাক রেকর্ড থাকায় এবং রাষ্ট্রীয় ‘সিকিউরিটি ভেটিং’ ক্লিয়ারেন্স নেতিবাচক (Negative) আসায় তাকে প্রেস উইংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং বিষয়টি বিটিভি কর্তৃপক্ষকে পূর্বেই অবহিত করা হয়েছিল।
চরম চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস এ বি এম নুরুল ইসলাম বাচ্চু না প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোনো ডিউটি করেছেন, না বিটিভির মূল দপ্তরে হাজির হয়েছেন। অথচ এই পুরো সময় জুড়ে বিটিভির বায়োমেট্রিক হাজিরা অকেজো থাকার ব্যাকডোর সুযোগ নিয়ে ম্যানুয়াল খাতায় সই জালিয়াতি করে প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেক বেতন-ভাতা ঠিকই উত্তোলন করে নিয়েছেন, যা রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের শামিল। দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস পর যখন অনুসন্ধানে এই জালিয়াতি ফাঁস হয়ে যায় ঠিক তখনই গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে আবেদনপত্রটি কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে আমার টেলিভিশনে তার বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হলে নিজের পিঠ বাঁচাতে জ্যেষ্ঠ এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন জিডি করে বিটিভিকে দুর্নীতিমুক্ত করার যে আন্দোলন তা রুদ্ধ করা এবং গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করার সকল অশুভ অপপ্রয়াস ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
জিএম-কে অন্ধকারে রেখে সিএনই-র রহস্যজনক ভূমিকা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি!
বিটিভির অতিরিক্ত দায়িত্বে নতুন যোগদান করা জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শারমিন সুলতানা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সিকিউরিটি রিজেকশনের বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। নুরুল ইসলাম বাচ্চুর আবেদনের ওপর গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে জিএম সরল বিশ্বাসে “তাকে নিয়মিত কাজে অন্তর্ভুক্ত করুন” বলে নির্দেশনা দেন।
কিন্তু এই প্রশাসনিক সুযোগকে ঢাল বানিয়ে বিটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক (সিএনই) অত্যন্ত রহস্যজনক ও ষড়যন্ত্রমূলক ভূমিকা পালন করেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সিকিউরিটি রিজেকশন খাওয়া এবং গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স অস্বচ্ছ থাকা এই বিতর্কিত চিত্রগ্রাহককে দিয়ে পরদিনই, অর্থাৎ ২১ মে ২০২৬ তারিখে এদেশের সর্বোচ্চ স্পর্শকাতর স্থান ‘জাতীয় সংসদ ভবন’-এর একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সংবাদ কাভারেজের অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব (অ্যাসাইনমেন্ট) প্রদান করা হয়! সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সহীন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থানে ডিউটি দেওয়া দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করে।
এর আগেও চ্যানেল আই-এর একটি অনুষ্ঠানে মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ কাভারেজের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হলে খোদ মন্ত্রণালয় থেকে তীব্র আপত্তি তোলায় অনুষ্ঠানের দিন সকালে বিটিভি কর্তৃপক্ষ তাকে উক্ত দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিল।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই জঘন্য জালিয়াতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা জিডি প্রসঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ২১ মে ২০০২৬ বিটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক (সিএনই) উল্টো দুর্নীতিবাজ বাচ্চু ও তার সিন্ডিকেটকে রক্ষা করার সুর ধরেন। তিনি প্রস্তাব দেন যে—”বাচ্চু যদি আন্দোলনকারী সংগঠন বা সাংবাদিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং জিডি প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তাকে বিটিভিতে ছোটখাটো ডিউটি প্রদান করা যায় কিনা!”
একজন প্রধান বার্তা সম্পাদকের এই ধরণের আপসমূলক প্রস্তাব সরাসরি অপরাধীর সহযোগী হওয়ার শামিল। নতুন জিএম শারমিন সুলতানাকে এই সকল স্পর্শকাতর বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য অবহিত না করে প্রধান বার্তা সম্পাদক নিজেই বিটিভির ভেতরে এই চরম প্রশাসনিক বিভ্রান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করেছেন। মূলত, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে কর্মরত বাচ্চুর স্ত্রী শাহনাজ বেগমের (সহকারী সচিব, নন-ক্যাডার) প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়েই এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে পার পেয়ে আসছে।
আইন ও চাকুরির বিধিমালা লঙ্ঘন
আইনি ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নুরুল ইসলাম বাচ্চু বিটিভি কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এবং কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন (Forwarding) ছাড়াই এই জিডিটি দায়ের করেছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর বিধি-২৮ অনুযায়ী, কোনো সরকারি চাকুরিজীবী তার দাপ্তরিক বা পেশাগত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় জিডি বা মামলা করতে পারেন না।
একই সাথে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাংবাদিকদের সুরক্ষায় জারিকৃত সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন (সূত্র নম্বর: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়/প্রেস-১/বিবিধ-১/২০২৪/৮৬৬) অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট প্রাথমিক সত্যতা ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে কোনো ধরনের হয়রানিমূলক মামলা বা জিডি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। ফলে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা বাচ্চুর এই বানোয়াট ভিত্তিহীন জিডি সরাসরি ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী “চরম অসদাচরণ” (Misconduct)।
কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস বিটিভি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের:
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই সম্পূর্ণ অবৈধ, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর জিডি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান:
”একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে বিটিভির পরিচয় ব্যবহার করে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে চাকরিরত নন ক্যাডার সহকারী সচিব স্ত্রী শাহনাজ বেগমের নাম ভাঙ্গিয়ে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় ব্যক্তিগত জিডি করা সরাসরি চাকুরির শৃঙ্খলা বিধির চরম লঙ্ঘন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গভীর ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
স্তব্ধ হবে না বিটিভি রক্ষার লড়াই: শিল্পী সমাজের তীব্র আলটিমেটাম:
এই নগ্ন নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ‘বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও শিল্পী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর আহ্বায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মিউজিক ডিরেক্টর, গীতিকার ও সুরকার হাসিম উদ্দিন কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন—
”আমরা শিল্পী সমাজ বা সাংবাদিক সমাজ বিটিভির বা বিটিভিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শত্রু নই, বরং আমরা বিটিভির হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছি এবং কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনের শাসন চেয়ে আসছি। আর সে কারণে এই সংগঠনের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত ও জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট জিডি করার অর্থ এই যে, আমাদের আন্দোলনকে থামানো এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করার অপচেষ্টা মাত্র। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে বিটিভি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবো এই ধুরন্ধর এ বি এ নুরুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।”
সংগঠনের সদস্য সচিব এবং আন্দোলনের প্রধানতম নেতৃত্বদানকারী বিটিভির তালিকাভুক্ত জনপ্রিয় শিল্পী পলাশ কুমার সাউ ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন—
”আমাদের সংগঠনের সহযোদ্ধা ও অন্যতম উপদেষ্টা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক এবং দেশের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এই মিথ্যা ও বানোয়াট জিডি প্রত্যাহার করা হোক। ক্যামেরাম্যান নুরুল ইসলাম বাচ্চু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় এহেন অপকর্ম ও দুর্নীতি নাই যে করেননি। এছাড়া শতাধিক চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সাবেক বিতর্কিত জিএম নুরুল আজম পবনের প্রধান সহযোগী হিসেবে সে বিশাল অংকের নিয়োগ বাণিজ্য করেছে। তার বিরুদ্ধে বিটিভি কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।”
সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের তীব্র ক্ষোভ ও আইনি হুঁশিয়ারি:
মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই জিডি প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিটিভি সংস্কার আন্দোলনের সহযোদ্ধার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ উপস্থাপনের জন্য সাংবাদিকতার নৈতিকতা মেনে এ বি এম নুরুল ইসলাম বাচ্চুকে ফোন করা হয়েছিল। অথচ তিনি নিজের অপরাধ আড়াল করতে সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে আমার ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটি ব্যবহার করে আমাকে মানসিকভাবে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই বানোয়াট ‘জিডি নাটক’ সাজিয়েছেন। তিনি জিডিতে কাল্পনিক হুমকি-ধামকির দাবি করলেও এর সপক্ষে থানায় কোনো ন্যূনতম প্রমাণ বা অডিও রেকর্ড দাখিল করতে পারেননি। উল্টো জিডির শুরুতেই তার স্ত্রী মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার সহকারী সচিব শাহনাজ বেগমের পদের প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বর্তমান গণমাধ্যমবান্ধব গণতান্ত্রিক সরকারের স্পষ্ট নীতি ও মনোভাব হলো সাংবাদিকদের কোনোভাবেই পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে হয়রানি করা যাবে না। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা ছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবাদপত্রের নৈতিকতা অনুযায়ী কোনো সংবাদের বিরুদ্ধে কারও আপত্তি থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা বা প্রতিবাদলিপি পাঠাতে পারেন, যা হুবহু প্রকাশ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক আইনি পথ পরিহার করে নুরুল ইসলাম বাচ্চু যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন সাংবাদিক সমাজ ও শিল্পী সমাজ স্পষ্ট জানিয়েছে, মিথ্যা জিডি বা চক্রান্ত করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা যাবে না এবং বিটিভিকে ধ্বংসকারী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত এই শুদ্ধি আন্দোলন রাজপথে এবং কলমে একযোগে অব্যাহত থাকবে।