
“এবি এম রেজাউল বারীকে ঘিরে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পদোন্নতি নিয়ে নতুন বিতর্ক”
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানের মধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)-এর কর্মকর্তা আবুল বাছেদ মো. রেজাউল বারীর পদোন্নতি প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তার বিরুদ্ধে পিরোজপুর জেলার কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি পদোন্নতি লাভ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রেজাউল বারী নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান পদোন্নতি নিশ্চিত করতেও তাকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রামাণ্য তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৭ মে থেকে ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত রেজাউল বারী বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প (এফডিডিআরআইআরপি)-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক মন্ত্রী শেখ সেলিম এবং সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব-এর ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করেই কাগজপত্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মজিবরের সমাধিতে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। এ বিষয়েও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১১ মে এক বক্তব্যে পিরোজপুর জেলার উদাহরণ টেনে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পে কাজ না করেই শুধু কাগজপত্র দেখিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। একই জেলায় বিভিন্ন প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যদিও বক্তব্যে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, অতীতের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কিছু তথ্য অর্থের বিনিময়ে পরিবর্তন করে দুদকের চলমান অনুসন্ধানের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। একই সঙ্গে রেজাউল বারীর মেয়ের জামাই, যিনি এলজিইডির একজন কর্মকর্তা, তার বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে তারা দাবি করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব তথ্যও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দুদকের অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই একজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দুদকের চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশের দিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর।
অভিযুক্তের বক্তব্য;
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আমার টেলিভিশনের পক্ষ থেকে মো. রেজাউল বারীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আমার টেলিভিশনের বক্তব্য:
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বিভিন্ন সূত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধান ও আইনগত প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তদন্তে ভিন্ন তথ্য বা অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।