October 24, 2026, 5:59 am
শিরোনাম :
ফেসিয়াল প্লাস্টিক সার্জারি: চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মেলবন্ধন বিটিভি: ​চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিচার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ ছাড়া বিটিভির আধুনিকায়ন কেবলই অর্থের অপচয়  শিশুর হাসিতে ফিরুক আত্মবিশ্বাস: প্লাস্টিক সার্জারিতে নিখুঁত রূপ পাচ্ছে বিকৃত ক্ষতচিহ্ বিটিভি কর্মীর মৃত্যু, তিন মাসের বেতন বকেয়ার প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কি লাল ফিতার ফাঁদে? তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার অপসারণ দাবি: বিটিভি বাঁচাও ও সমমনা জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি মেধা বনাম আমলাতন্ত্র: বিটিভির ডিজির ক্ষমতা খর্বের নেপথ্যে কী? শিল্পকলা একাডেমিতে মিউজিক্যাল চেয়ার: রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ, সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন “সাংবাদিকরা বিত্তবান হতে চায় না, চায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন”— জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যকে সাধুবাদ, পার্থর দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষা শিলংয়ে জন্ম, চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিক যোগ—যে ব্রিটিশ উদ্ভাবক বদলে দিলেন টাকা তোলার ইতিহাস! ​বিটিভির জন্য বড় দুঃসংবাদ: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজ মনিরুলই হতে চলেছেন প্রধান প্রকৌশলী!
Notice :

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ৩৪ আশ্রয়কেন্দ্রে ৪,৩৬৫ মানুষ: আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম

বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম জেলা || আমার টেলিভিশন

“দ্রুত বিশেষ বরাদ্দ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস, দুর্গতদের পাশে থাকার অঙ্গীকার”

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে রাঙামাটি জেলায় ভয়াবহ দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে হাজারো মানুষ নিজ নিজ বসতভিটা ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মোট ৪ হাজার ৩৬৫ জন মানুষ বর্তমানে জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর থেকে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম পৌর এলাকার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র, লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্র, ভেদভেদি আশ্রয়কেন্দ্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ভবন আশ্রয়কেন্দ্রসহ পৌর এলাকার আরও কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। পরে তিনি সাম্প্রতিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয়তা এবং দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম। তিনি দুর্গত মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের সাহস ও সান্ত্বনা দেন।

পরিদর্শন শেষে মো. হাবীব আজম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রাঙামাটি জেলা পরিষদের মাধ্যমে পৌর এলাকার জন্য যে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই দুর্যোগে প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত শিশুদের হাতে চকলেট তুলে দেন। আকস্মিক এই উপহার পেয়ে শিশুদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। দুর্যোগের মধ্যেও এমন মানবিক উদ্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি করে।

পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভেদভেদি পশ্চিম মুসলিম পাড়া সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ জয়, ভেদভেদি লোকনাথ মন্দিরের দপ্তর সম্পাদক রঞ্জিত দাশ, গ্রিন হিল স্পোর্টিং ক্লাবের আহ্বায়ক সাকিবুল হাসান সায়েম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম হোসেন, সদস্য সচিব নাজমুল হাসান নয়ন, সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান সাগর, ইয়াসিন উদ্দীন মেঘ, রাম দাশ, সাব্বির হোসেন, ইমরানসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এ সময় তারা আশ্রয়কেন্দ্রের সার্বিক শৃঙ্খলা, দুর্গত মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, শিশু ও বয়স্কদের প্রয়োজনীয়তা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এদিকে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি; বরং আরও বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি জেলা পরিষদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।