October 25, 2026, 6:12 am
শিরোনাম :
ফেসিয়াল প্লাস্টিক সার্জারি: চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মেলবন্ধন বিটিভি: ​চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিচার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ ছাড়া বিটিভির আধুনিকায়ন কেবলই অর্থের অপচয়  শিশুর হাসিতে ফিরুক আত্মবিশ্বাস: প্লাস্টিক সার্জারিতে নিখুঁত রূপ পাচ্ছে বিকৃত ক্ষতচিহ্ বিটিভি কর্মীর মৃত্যু, তিন মাসের বেতন বকেয়ার প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কি লাল ফিতার ফাঁদে? তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার অপসারণ দাবি: বিটিভি বাঁচাও ও সমমনা জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি মেধা বনাম আমলাতন্ত্র: বিটিভির ডিজির ক্ষমতা খর্বের নেপথ্যে কী? শিল্পকলা একাডেমিতে মিউজিক্যাল চেয়ার: রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ, সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন “সাংবাদিকরা বিত্তবান হতে চায় না, চায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন”— জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যকে সাধুবাদ, পার্থর দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষা শিলংয়ে জন্ম, চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিক যোগ—যে ব্রিটিশ উদ্ভাবক বদলে দিলেন টাকা তোলার ইতিহাস! ​বিটিভির জন্য বড় দুঃসংবাদ: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজ মনিরুলই হতে চলেছেন প্রধান প্রকৌশলী!
Notice :

টিএফআই সেল গুম মামলা: অভিযোগ গঠনে উত্তপ্ত ট্রাইব্যুনাল, চার সপ্তাহ সময় পেল আসামিপক্ষ

খালিদ খলিল

“র‌্যাবের টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু, সময় চাওয়া নিয়ে প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের তীব্র বাকবিতণ্ডায় হস্তক্ষেপ আদালতের”

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের আদেশ ঘিরে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হন ট্রাইব্যুনাল।

২৩ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এজলাসে ওঠেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শুনানি শুরুর পর আসামিদের আইনজীবীদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর প্রসিকিউশনের আনা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পড়ে শোনানো হয় কাঠগড়ায় উপস্থিত ১০ আসামিকে। অভিযোগ পাঠ শেষে বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী তাদের কাছে জানতে চান—দোষী না নির্দোষ। সবাই দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এ সময় এক সেনা কর্মকর্তা বলেন,
“আমরা নিরপরাধ। আমাদের কোনো দোষ নেই। এ আদালতের মাধ্যমে আমরা ইনসাফ পাবো বলে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।”
এ বক্তব্যের পর বিচারক তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বসতে বলেন। অভিযোগের ভিত্তি থাকায় ১৭ আসামির বিরুদ্ধেই বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল এবং সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

সূচনা বক্তব্যের আগে প্রস্তুতির জন্য তিন মাস সময় চান গ্রেপ্তার সাত সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী তাবারক হোসেন। তিনি বলেন,
“প্রসিকিউশন থেকে আমাদের অনেক নথিপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব পড়ে বুঝতে হবে। প্রসিকিউশনের সাক্ষীরা কী বলেছেন তা-ও পড়তে হবে। একইসঙ্গে ঘটনাস্থল (টিএফআই সেল) পরিদর্শন করতে হবে… পর্যাপ্ত সময় না পেলে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়।”
এতে বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বলেন,
“সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউর গ্রাউন্ড বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।”
এই মন্তব্যে আপত্তি জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উচ্চস্বরে বলেন,
“প্রসিকিউশনের কথা শুনে অর্ডার দিতে হবে। ওনি রিভিউ করবেন, সেজন্য কি ট্রায়াল বসে থাকবে?”
জবাবে বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বলেন,
“আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। আপনি যেভাবে কথা বলেন, আদালতে এভাবে কথা বলে না… যতক্ষণ না আদেশ পাস করা হচ্ছে, আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না।”
একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন,
“চিফ প্রসিকিউটর, আপনি বসেন।”
এবং বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ যোগ করেন,
“আমরা কি আপনাকে শুনি না? আপনি কথায় কথায় দাঁড়িয়ে যান কেন?”
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে,
“একজন শেষ না করতে আরেকজন দাঁড়িয়ে যাওয়া খুবই অপ্রত্যাশিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশা করবে ট্রাইব্যুনাল।”

শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামিপক্ষকে প্রস্তুতির জন্য চার সপ্তাহ সময় দেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২১ জানুয়ারি সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়।

শুনানি শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী বলেন,
“আইনে বলা আছে কোনো আনডিউ ডিলে এলাও করা যাবে না… চিফ প্রসিকিউটর সেটিই আদালতকে বলেছেন।”
অন্যদিকে আইনজীবী তাবারক হোসেন বলেন,
“আমরা ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়েই কথা বলি… ট্রাইব্যুনাল বলেছেন ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের বিষয় আর না ঘটে।”

উল্লেখ্য, এ মামলায় গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে হাজির করা হয়। শেখ হাসিনাসহ ছয়জন এখনো পলাতক। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে এ মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।