

দেশের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ঘিরে আবারও জোরালো হয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে, যা প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন দপ্তরে সংস্কারের আভাস মিললেও গণপূর্ত অধিদপ্তরে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন স্পষ্ট নয়—বরং পুরনো প্রভাবশালীদের দাপট অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলা (সিআর-১১৮/২০২৫) এই পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। মামলায় অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দাঙ্গা, গুরুতর আঘাত ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এতে অন্তত ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে শুরু করে সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নামও রয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই অতীত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি পেয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তারা একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, যা এখনো বদলি, পদায়ন এবং ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের চিত্রও উদ্বেগজনক। নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, নকশা পরিবর্তন এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোতে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে।
মাঠপর্যায়ের একাধিক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থের একটি অংশ উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায়, যার ফলে সৎ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অবসর গ্রহণের পরও কিছু কর্মকর্তা ঠিকাদারি বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের পূর্বের প্রভাব বজায় রাখছেন। এতে নতুন কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো মান ও স্থায়িত্বের ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি জনগণের করের অর্থের অপচয়ও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর জবাবদিহিতা এবং আইনের আওতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
#গণপূর্ত_অধিদপ্তর
#দুর্নীতি_অনুসন্ধান
#আমার_টেলিভিশন
#InvestigativeJournalism
#PublicWorksCorruption
#BangladeshGovernance
#TransparencyNow
#Accountability
#TenderIrregularities
