

“সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নিরাপদ নেভিগেশন ও সুনীল অর্থনীতি জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ”
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ‘নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন’ (NIOHC)-এর ২৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (IHO)-এর পরিচালক, নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সামরিক ও অসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশন্স) এবং ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটি ও নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বিশ্বের অন্যান্য সামুদ্রিক রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও একটি স্বতন্ত্র হাইড্রোগ্রাফিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ‘ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফার’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান দেশের সামগ্রিক হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের সমন্বয় ও জবাবদিহিমূলক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও অন্যান্য সমুদ্রগামী জাহাজের নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সুনীল অর্থনীতি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনায় কার্যকর অবদান রাখবে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের নিজ নিজ হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, অর্জিত সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে। একই সঙ্গে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (IHO) অধীন ১৫টি আঞ্চলিক কমিশনের মধ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন অন্যতম। আন্দামান সাগর থেকে এডেন উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড অংশগ্রহণ করে। এছাড়া সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ওমান, মরিশাস, সেশেলস, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সুদানের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং হাইড্রোগ্রাফিক সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের জন্য নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।