
“সিলেটে হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস বাসে আগুনের ঘটনায় হত্যা ও নাশকতা মামলার রায়ে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি”
সিলেট প্রতিনিধি || আমার টেলিভিশন:
দীর্ঘ ১৪ বছর পর সিলেটের বহুল আলোচিত হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস বাস অগ্নিসংযোগ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আলোচিত এ মামলায় চিত্রনায়িকা শাবনূর-এর বাবা হিসেবে দাবি করা নিহত কাজী নাসিরের মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় আসে।
মঙ্গলবার (১২ মে) মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. শরিফুল ইসলাম হত্যা ও নাশকতার পৃথক দুই মামলায় অভিযুক্ত সকল আসামিকে খালাস প্রদান করেন। মামলায় মোট ৩৮ জন আসামি ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনা এলাকায় চলন্ত হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধ যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রথমদিকে তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
ঘটনার প্রায় ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি জোস্না আক্তার নামের এক নারী নিহত ব্যক্তিকে তার স্বামী কাজী নাসির বলে দাবি করেন। তিনি জানান, নিহত নাসির ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবা। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে কাজী নাসিরের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নাসিরের একাধিক বিয়ে ছিল এবং পারিবারিক জটিলতার বিষয়টিও তখন আলোচনায় আসে।
মামলাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচিত ছিল। কারণ আসামিদের তালিকায় বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী-সহ দলের একাধিক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলী। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, বিএনপি নেতা এটিএম ফয়েজ, মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাকিল মোর্শেদসহ আরও অনেকে।
আসামিপক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত ও অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ। রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।