
“ইরান-বাংলাদেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ; চট্টগ্রামের তিনটি মাদ্রাসায় মতবিনিময় সভা”
চট্টগ্রাম সফররত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি প্রতিনিধি দল মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ধর্মীয় মতপার্থক্যকে বিভেদের কারণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, এক আল্লাহ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও কিবলার প্রতি বিশ্বাসী সব মুসলমান একই উম্মাহর অংশ। আকিদা ও মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম পরিচয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশে ইরানের দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে দিনব্যাপী সফরকালে বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব বক্তব্য দেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. সাইয়্যেদ মাহদী আলীযাদেহ মুসাভী, ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদী মৌলায়ী অরনি, কোম নগরীর ইসলামিক সেমিনারির শিক্ষক ও গবেষক সাইয়্যেদ মোস্তফা মুসাভী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা কাসেম শাবানকারী এবং চট্টগ্রাম ইমামবাড়ার ইমাম মাওলানা আমজাদ হোসাইন।
বক্তারা বলেন, বিশ্বে ৫৭টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও বিভক্তির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন শক্তি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করছে। তারা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় ইরান ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফার্সি ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার আগ্রহের কথাও তারা তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী সফরের প্রথম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের লালখান বাজারস্থ জামেয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। মাদ্রাসার পক্ষে বক্তব্য দেন মুফতি আবু সাফওয়ান, মুফতি নুরুল হক বুখারী, মাওলানা আজিজুল হক ও মাওলানা আবু সালেহ।
পরবর্তীতে বেলা ১১টায় বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসায় দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মুফতি শেখ আবু সালেহ মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ। এরপর দুপুর ১টায় জোহরের নামাজের পর হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাগুলোতে বক্তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং ইরান-বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।