October 25, 2026, 6:52 am
শিরোনাম :
ফেসিয়াল প্লাস্টিক সার্জারি: চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মেলবন্ধন বিটিভি: ​চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিচার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ ছাড়া বিটিভির আধুনিকায়ন কেবলই অর্থের অপচয়  শিশুর হাসিতে ফিরুক আত্মবিশ্বাস: প্লাস্টিক সার্জারিতে নিখুঁত রূপ পাচ্ছে বিকৃত ক্ষতচিহ্ বিটিভি কর্মীর মৃত্যু, তিন মাসের বেতন বকেয়ার প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কি লাল ফিতার ফাঁদে? তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার অপসারণ দাবি: বিটিভি বাঁচাও ও সমমনা জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি মেধা বনাম আমলাতন্ত্র: বিটিভির ডিজির ক্ষমতা খর্বের নেপথ্যে কী? শিল্পকলা একাডেমিতে মিউজিক্যাল চেয়ার: রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ, সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন “সাংবাদিকরা বিত্তবান হতে চায় না, চায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন”— জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যকে সাধুবাদ, পার্থর দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষা শিলংয়ে জন্ম, চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিক যোগ—যে ব্রিটিশ উদ্ভাবক বদলে দিলেন টাকা তোলার ইতিহাস! ​বিটিভির জন্য বড় দুঃসংবাদ: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজ মনিরুলই হতে চলেছেন প্রধান প্রকৌশলী!
Notice :

ব্লাউজ: শালীনতার আবরণ থেকে বাঙালি নারীর সামাজিক রূপান্তরের দলিল 

ফিচার ডেস্ক || আমার টেলিভিশন

“শেরশাহর আমলের কাঁচুলি থেকে ব্রিটিশ শাসনকাল—ব্লাউজের ইতিহাস, সমাজ ও ফ্যাশনের বিবর্তন”

খুব বেশি দূরের কথা নয়—একসময় ভারতবর্ষের নারীরা শাড়ি পরলেও ঊর্ধ্বাঙ্গে আলাদা কোনো পোশাক ব্যবহার করতেন না। শাড়ির প্রচলন থাকলেও শাড়ির নিচে কী পরতে হবে, সে বিষয়ে সমাজে তখনো কোনো নির্দিষ্ট ধারণা গড়ে ওঠেনি। ফলে বহু অঞ্চলে, বিশেষ করে বাংলায়, নারীরা শাড়ির সঙ্গে বক্ষ উন্মুক্ত রেখেই চলাফেরা করতেন। এমনকি রানি ভিক্টোরিয়ার শাসনামলেও বাংলার কোনো কোনো নারী শাড়ির নিচে ব্লাউজ পরতেন না—যা ব্রিটিশ শাসকদের দৃষ্টিতে শালীনতার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হতো।

ব্লাউজ শব্দটি ইংরেজি; যার শাব্দিক অর্থ ঢোলা বহির্বাস। তবে উপমহাদেশে এর ব্যবহারিক ধারণা শুরু হয় আরও আগে—শেরশাহ সূরির আমলে। সে সময় নারীরা চাকমা নারীদের মতো এক টুকরো কাপড় বুকে বেঁধে রাখতেন। এই পোশাকটিকে তখন ‘কাঁচুলি’ বলা হতো। আবার অনেকেই একে বক্ষবন্ধনী নামেও অভিহিত করতেন।

ভারতবর্ষে ব্লাউজের ব্যাপক প্রচলন ঘটে ইংরেজ শাসনামলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে ইংরেজ নারীরাও এ দেশে আসেন। তারা উপরে ছেলেদের শার্টের আদলে ব্লাউজ এবং নিচে লং স্কার্ট পরতেন। এই ভিন্নধর্মী পোশাকশৈলী ভারতীয় নারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাতিজি শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পরার রীতি চালু করেন। ধীরে ধীরে তা সমাজের শিক্ষিত ও ধনিক শ্রেণির নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়—সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবীকে ব্রিটিশ শাসনামলে একটি ক্লাবে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়, কারণ তিনি শাড়ির নিচে ব্লাউজ পরেননি। এই সামাজিক অপমান ও অভিজ্ঞতা থেকেই আধুনিক ব্লাউজের কাঠামোগত ধারণা গড়ে ওঠে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।

১৮৯০ সাল থেকে ব্লাউজ ধীরে ধীরে ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। তখন একটি সাধারণ ব্লাউজ ও একটি প্লেন স্কার্ট উঠতি বয়সী তরুণীদের আদর্শ পোশাক হিসেবে বিবেচিত হতো। পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ১৯০০ থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে সমাজে নারীর অবস্থান, শিক্ষা ও সচেতনতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্লাউজের নকশা, কাট এবং স্টাইলেও আসে বৈচিত্র্য।

আজকের দিনে ব্লাউজ কেবল শাড়ির অনুষঙ্গ নয়—এটি সময়, সমাজ ও সংস্কৃতির সাক্ষ্য বহনকারী একটি পোশাক। বাঙালি নারীর শালীনতা, আত্মপরিচয় ও সামাজিক অভিযোজনের ইতিহাসে ব্লাউজ হয়ে উঠেছে এক নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দলিল।