
মোহন রায়হান যখন বলেছিলেন—“দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে পুরস্কার গ্রহণ করছি”, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এটি কাব্যিক অতিশয়োক্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই উচ্চারণ যেন এক ধরনের তির্যক ইশারায় রূপ নিয়েছে। একটি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব জুড়ে দেওয়া—এ কি নিছক আবেগ, নাকি সূক্ষ্ম চাপ প্রয়োগের কৌশল?
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ ঘিরে বিতর্ক থামেনি। দ্বিতীয় দফায় সময় নির্ধারণের পরও পুরস্কার প্রদান হয়নি। কবি আবার শর্তের কথা তুলেছেন—তিনটি শর্ত মানলে তবেই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেবেন, তবে অর্থ নেবেন না। প্রশ্ন জাগে, এটি কি নৈতিক অবস্থান, নাকি প্রতীকী নাটকীয়তা?
“সার্বভৌমত্ব” শব্দটি সাধারণত রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত। সেই শব্দকে সামনে এনে যেন একটি বার্তা ছুড়ে দেওয়া হয়েছে—পুরস্কার না দিলে রাষ্ট্রের মর্যাদাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সমালোচকদের মতে, এতে এক ধরনের নরম হুমকির সুর আছে; যেন ব্যক্তিগত বিতর্ককে জাতীয় স্বার্থের আড়ালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
অভিযোগ ও অতীত মন্তব্য ঘিরে যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন স্বচ্ছ তদন্ত ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ার জবাবদিহিতাই ছিল প্রত্যাশিত পথ। কিন্তু সার্বভৌমত্বের তির্যক আবরণে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। ফলে এখন শুধু ব্যক্তি নয়, মনোনয়নকারীদের ভূমিকাও কাঠগড়ায়—এবং পুরস্কার বাতিলের দাবিও আগের চেয়ে জোরালো।