October 24, 2026, 6:45 am
শিরোনাম :
ফেসিয়াল প্লাস্টিক সার্জারি: চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মেলবন্ধন বিটিভি: ​চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিচার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ ছাড়া বিটিভির আধুনিকায়ন কেবলই অর্থের অপচয়  শিশুর হাসিতে ফিরুক আত্মবিশ্বাস: প্লাস্টিক সার্জারিতে নিখুঁত রূপ পাচ্ছে বিকৃত ক্ষতচিহ্ বিটিভি কর্মীর মৃত্যু, তিন মাসের বেতন বকেয়ার প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কি লাল ফিতার ফাঁদে? তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার অপসারণ দাবি: বিটিভি বাঁচাও ও সমমনা জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি মেধা বনাম আমলাতন্ত্র: বিটিভির ডিজির ক্ষমতা খর্বের নেপথ্যে কী? শিল্পকলা একাডেমিতে মিউজিক্যাল চেয়ার: রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ, সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন “সাংবাদিকরা বিত্তবান হতে চায় না, চায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন”— জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যকে সাধুবাদ, পার্থর দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষা শিলংয়ে জন্ম, চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিক যোগ—যে ব্রিটিশ উদ্ভাবক বদলে দিলেন টাকা তোলার ইতিহাস! ​বিটিভির জন্য বড় দুঃসংবাদ: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজ মনিরুলই হতে চলেছেন প্রধান প্রকৌশলী!
Notice :

সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের সংকট: রুচির দুর্ভিক্ষে অপসংস্কৃতির আধিপত্য

খালিদ খলিলॐ|| গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মী

“সংস্কৃতি যখন আত্মপরিচয়ের মূল, তখন তার অবক্ষয় মানে জাতিসত্তার নীরব অবলুপ্তি”

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আজ এক গভীর সংকটের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করছে—এটি কেবল শিল্পের সংকট নয়, এটি রুচির সংকট, চেতনার সংকট, এবং সর্বোপরি সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের সংকট। যে সংস্কৃতি একসময় এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয়, মনন ও মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, আজ সেই সংস্কৃতিই ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার নিজস্বতা।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন—

“নিজের সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে কোনো জাতি বড় হতে পারে না।”

এই বাণী আজ যেন আরও প্রাসঙ্গিক। কারণ, আমাদের সংস্কৃতির ভেতরেই এখন প্রবেশ করেছে এক ধরনের নীরব আগ্রাসন—অপসংস্কৃতির আধিপত্যবাদ। এটি বাহ্যিক নয়, বরং অন্তর্গত; এটি বিনোদনের মোড়কে, আধুনিকতার নামে, এবং জনপ্রিয়তার আড়ালে ধীরে ধীরে আমাদের শিকড়কে দুর্বল করে দিচ্ছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার সৃষ্টিতে বারবার আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার কথা বলেছেন—

“পরের মুকুট পরে নিজের মাথা উঁচু হয় না।”

আজকের বাস্তবতায় আমরা দেখছি—সাংস্কৃতিক চর্চা ক্রমেই হয়ে উঠছে প্রদর্শনভিত্তিক, গভীরতাহীন এবং বাজারনির্ভর। শিল্পের স্থানে স্থান করে নিচ্ছে চটকদারতা, মৌলিকতার জায়গা দখল করছে অনুকরণ, আর সাধনার জায়গায় বসছে শর্টকাট খ্যাতির মোহ।

সংকটের স্তরবিন্যাস:

১. সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের অবক্ষয়: নিজস্ব ভাষা, সুর, ঐতিহ্য ও শিল্পরীতির প্রতি অবহেলা বাড়ছে। বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে আমরা হারাচ্ছি আমাদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর।

২. অপসংস্কৃতির আধিপত্যবাদ: অশালীনতা, কৃত্রিমতা ও ভোগবাদী উপস্থাপনাকে ‘ট্রেন্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এটি কেবল রুচিকে বিকৃত করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের মানসিক গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

৩. মিডিয়া ও পৃষ্ঠপোষকতার সংকট: গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত শিল্পের জায়গা সংকুচিত। অর্থনির্ভর প্রচার, দলীয়করণ, এবং চাটুকারিতার সংস্কৃতি প্রকৃত শিল্পীদের প্রান্তিক করে দিচ্ছে।

৪. চর্চা ও শিক্ষার অভাব: গুরু-শিষ্য পরম্পরা ভেঙে পড়েছে। সাধনার জায়গায় এসেছে তাড়াহুড়ো করে ‘শিল্পী’ হয়ে ওঠার প্রবণতা।

সম্ভাবনার আলো:

তবুও, সম্পূর্ণ অন্ধকার নয়। দেশের নানা প্রান্তে কিছু নিষ্ঠাবান শিল্পী, সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কর্মী এখনও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা জানেন—সংস্কৃতি কোনো পণ্য নয়, এটি একটি জাতির আত্মার ভাষা। এই চেতনা থেকেই পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

উপসংহার:

সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা মানে কেবল ঐতিহ্য সংরক্ষণ নয়—এটি একটি প্রতিরোধ, একটি অবস্থান। অপসংস্কৃতির আধিপত্যের বিরুদ্ধে, রুচির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে, এবং আত্মপরিচয়ের বিলুপ্তির বিরুদ্ধে।

এখন সময়—

সংস্কৃতিকে আবার মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার, শিল্পকে আবার সাধনার আসনে বসানোর, এবং জাতিসত্তাকে তার নিজস্ব আলোয় উদ্ভাসিত করার।