মানুষের মধ্যে মানুষের প্রতি আচরণের এক অদ্ভুত বাঁশ–ব্যাকরণ
সমাজে আমরা প্রতিনিয়তই বাঁশের খেলা খেলছি—উপকার করলে যে বাঁশ খেতে হয়, তা সবাই জানে। কেউ সাহায্য করে মনে শান্তি খুঁজে, আবার কেউ উপকার করলে স্বার্থপর বাঁশ দিয়ে প্রতিদান দেয়। আমরা সবাই আমাদের নিজস্ব বাঁশ হাতে নিয়ে শান্তির ঢেকুর তুলি, অথচ সেই ঢেকুর কতটা স্থায়ী, তা কেউ জানে না। বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা বা প্রতিবেশী সম্পর্ক—সবই বাঁশের নীরব নিয়মে বাঁধা।
বিজ্ঞানেও বাঁশের প্রভাব কম নয়। টমাস আলভা এডিসনের বৈদ্যুতিক বাতিতে ব্যবহৃত ফিলামেন্টের মধ্যে বাঁশের অস্তিত্ব তা প্রমাণ করে। বৈচিত্র্যে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে—চীনের পরে। চীনের সভ্যতায় বাঁশকে শুভশক্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়; নেগেটিভ এনার্জি দূর করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়।
কিন্তু বাংলাদেশে? আমরা বাঁশ দিয়ে শান্তির ঢেকুর তুলি, অন্যের উপকারে বাঁশ খাই, আবার শেষ বিদায়ের সময় কবরে বাঁশ ছাড়া চলি না। স্বার্থ, উপকার, প্রতিদান—সবই বাঁশের নীরব জাদুতে বাঁধা। সহজ, সস্তা, অথচ ব্যঙ্গাত্মকভাবে শক্তিশালী এই বাঁশই আমাদের জীবনের রসায়ন এবং বিদায়ের সঙ্গী।
বাঁশের এই তত্ত্বই মানুষকে মনে করায়—উপকার করুন, তবে প্রস্তুত থাকুন বাঁশ খাওয়ার জন্য; জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যেই বাঁশের জাদু ফুটে ওঠে।