October 25, 2026, 4:50 am
শিরোনাম :
ফেসিয়াল প্লাস্টিক সার্জারি: চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মেলবন্ধন বিটিভি: ​চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিচার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ ছাড়া বিটিভির আধুনিকায়ন কেবলই অর্থের অপচয়  শিশুর হাসিতে ফিরুক আত্মবিশ্বাস: প্লাস্টিক সার্জারিতে নিখুঁত রূপ পাচ্ছে বিকৃত ক্ষতচিহ্ বিটিভি কর্মীর মৃত্যু, তিন মাসের বেতন বকেয়ার প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কি লাল ফিতার ফাঁদে? তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার অপসারণ দাবি: বিটিভি বাঁচাও ও সমমনা জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি মেধা বনাম আমলাতন্ত্র: বিটিভির ডিজির ক্ষমতা খর্বের নেপথ্যে কী? শিল্পকলা একাডেমিতে মিউজিক্যাল চেয়ার: রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ, সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন “সাংবাদিকরা বিত্তবান হতে চায় না, চায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন”— জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যকে সাধুবাদ, পার্থর দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষা শিলংয়ে জন্ম, চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিক যোগ—যে ব্রিটিশ উদ্ভাবক বদলে দিলেন টাকা তোলার ইতিহাস! ​বিটিভির জন্য বড় দুঃসংবাদ: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজ মনিরুলই হতে চলেছেন প্রধান প্রকৌশলী!
Notice :

“ভি বালসারা — সুরের অসীম মন্দিরে পার্সি অথচ পরিপূর্ণ বাঙালি”—

খালিদ খলিল

“ভি বালসারা — সুরের অসীম মন্দিরে পার্সি অথচ পরিপূর্ণ বাঙালি”

— সঙ্গীত যার নেশা, সুর যার পরিচয়, আর বাংলা যার আপন দেশ

বাংলা সঙ্গীতজগতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের উপস্থিতি যেন এক অলৌকিক অনুগ্রহ। ভিয়েস্তাপ আর্দেশির বালসারা— সেই বিরলতম একজন, যিনি পার্সি হয়ে জন্মালেও হৃদয়ে ছিলেন পুরোপুরি বাঙালি। তাঁর বিশ্বাস, “জীবন ক্ষণিক, কিন্তু শিল্প অমর।” এই কথার সত্যতা তিনি নিজের জীবন দিয়েই প্রমাণ করে গিয়েছেন।

শুরুটা মুম্বইয়ের সুখী শৈশব থেকে। ১৯২২ সালের ২২ জুন জন্মানো ছোট্ট বালসারার পৃথিবী ছিল সুরে ভরা। মা গাইতেন লঘুসঙ্গীত, আর বাবার টিউটোরিয়াল স্কুলে শেখানো হত ফ্রেঞ্চ, জার্মান, সায়েন্স— এমনকি ভায়োলিন, পিয়ানোও। আলাদা আলাদা শিক্ষকের কাছে প্রতিদিন নতুন যন্ত্রের শব্দ শুনতে শুনতেই তাঁর মধ্যে জন্ম নিল এক অদম্য অনুরাগ। মাত্র ছ’ বছর বয়সে প্রথম মঞ্চে সুর ছড়ালেন তিনি। পরে পিয়ানো শিখলেন জার্মান মিউজিক মায়েস্ত্রো হিলদাফিল্ডের কাছে।

তরুণ বালসারা জীবন খুঁজতে একদিন বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন পুণেতে। দিনে চাকরির খোঁজ, রাতে রেলস্টেশনের বেঞ্চ— এমনই ছিল জীবনের প্রথম সংগ্রাম। পরে মিলিটারি ক্যাম্পে ঘোড়াকে স্নান করানোর কাজ; কিন্তু সেখানেও মন টিকল না। শেষে ফিরে এলেন জ্যাজ সঙ্গীতে। সেই সুরই তাঁকে টেনে নিল একদিন কলকাতায়।

১৯৫৩ সালে অনিল বিশ্বাসের আমন্ত্রণে কলকাতার শিল্পীদের সাথে প্রথম আলাপ, আর তাতেই বদলে গেল জীবনের নৌপথ। বন্ধুরা সাবধান করেছিল— “বাঙালিরা থাকতে দেবে না।” অথচ তিনি এসেই দেখলেন, বাংলাই তাঁর ঠিকানা। ১৬ নম্বর অক্রূর দত্ত লেনের ছোট্ট ঘরটি হয়ে উঠল তাঁর সুরসাধনার মন্দির। এই ঘরেই জন্ম নিল মেলোডিকা ও ইউনিভক্স— ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক অনন্য আবিষ্কার।

রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে তাঁর বন্ধন শুরু বিস্ময় দিয়ে, পরিণতি গভীর ভক্তিতে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ধমক তাঁকে কিছুদিন দূরে সরিয়েছিল বটে, কিন্তু ল্যান্সডাউন রোডের একটি মরাঠি দম্পতি তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথের সুরের কাছে। বাংলা পড়তে শিখলেন, প্রতিটি শব্দ-সুর হৃদয়ে ধারণ করলেন। তারপর তাঁর পিয়ানোর ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠল— এ সো এসো আমার ঘরে এসো, সর্ব খর্ব তারে দহে, দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায়, যদি তোর ডাক শুনে…

ন্যাশনাল অর্কেস্ট্রায় তাঁর জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া—কুমুদ ভট্টাচার্য ও অন্য সঙ্গীতশিল্পীদের সেই ‘ত্যাগ’— তাঁর প্রতিভায় বিশ্বাসেরই প্রমাণ। আর তিনি শ্রদ্ধায় মাথা নত করতেন অন্য গুরুজনদের সামনে— পঙ্কজ মল্লিক থেকে সলিল চৌধুরী— যাঁকে তিনি প্রতিদিন রুমাল দিয়ে মুছে বলতেন, “তোমার সব গুণ আমায় দাও।”

কলকাতা তাঁকে বুকে ভর করে নিয়েছিল, আর তিনিও প্রমাণ করেছিলেন— শিল্পীর কোনও জাত নেই, কোনও সীমানা নেই, কোনও ভাষা নেই। সুরই তার দেশ।

ভি বালসারা তাই আজও অমর— তাঁর সুরে, তাঁর আবিষ্কারে, তাঁর অনুরাগে।
তিনি ছিলেন পার্সি, কিন্তু হৃদয়ে ছিলেন নিখাদ বাঙালি—
সুরের সেই চিরন্তন নাবিক।

#bangladeshcreativeartsandcultueparishad #aamartelevision #aamarthikana #khalidkhalil #bbalsara

Disclaimer:
This video may contain, background music or songs that are the intellectual property of their respective copyright holders. We make no claim of ownership over such material. The inclusion of this content is solely for creative, educational, historical, cultural, and non-commercial purposes. No financial gain is intended from this presentation. Regional or country-specific restrictions, if applicable, are fully respected. Full credit is acknowledged to the rightful copyright owners. No copyright infringement is intended.