October 24, 2026, 6:41 am
শিরোনাম :
ফেসিয়াল প্লাস্টিক সার্জারি: চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মেলবন্ধন বিটিভি: ​চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিচার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ ছাড়া বিটিভির আধুনিকায়ন কেবলই অর্থের অপচয়  শিশুর হাসিতে ফিরুক আত্মবিশ্বাস: প্লাস্টিক সার্জারিতে নিখুঁত রূপ পাচ্ছে বিকৃত ক্ষতচিহ্ বিটিভি কর্মীর মৃত্যু, তিন মাসের বেতন বকেয়ার প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কি লাল ফিতার ফাঁদে? তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার অপসারণ দাবি: বিটিভি বাঁচাও ও সমমনা জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি মেধা বনাম আমলাতন্ত্র: বিটিভির ডিজির ক্ষমতা খর্বের নেপথ্যে কী? শিল্পকলা একাডেমিতে মিউজিক্যাল চেয়ার: রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ, সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন “সাংবাদিকরা বিত্তবান হতে চায় না, চায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন”— জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যকে সাধুবাদ, পার্থর দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষা শিলংয়ে জন্ম, চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিক যোগ—যে ব্রিটিশ উদ্ভাবক বদলে দিলেন টাকা তোলার ইতিহাস! ​বিটিভির জন্য বড় দুঃসংবাদ: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজ মনিরুলই হতে চলেছেন প্রধান প্রকৌশলী!
Notice :

কণ্ঠের নীরব দীপশিখা, রবির আলো ও আধুনিকতার সুরে—দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় 

ডেস্ক প্রতিবেদন | আমার টেলিভিশন

“সুরকারের বিশ্বাসে জন্ম নেওয়া এক অবিনাশী কণ্ঠ, যে কণ্ঠ আজও সময় ছুঁয়ে থাকে”

সলিল চৌধুরীর সুরের গভীরে প্রবেশ করার সাহস যাঁর ছিল, তিনিই দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়। ‘পল্লবিনী গো সঞ্চারিণী’ গানটি গাওয়ার প্রস্তাবে প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন তিনি—নিজের কণ্ঠ সেই সুরের ভার নিতে পারবে কিনা, সেই সংশয় ছিল শিল্পীর মনে। কিন্তু সুরকার জানতেন তাঁর সৃষ্টির নাড়িনক্ষত্র। প্রায় জেদের সুরেই সলিলবাবু গানটি রেকর্ড করান দ্বিজেনবাবুর কণ্ঠে। আর তারপর—ইতিহাস। গানটি হয়ে ওঠে কালজয়ী, শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী আশ্রয় পায়।

দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতীয় বাঙালি সংগীতজগতের এক অনন্য অধ্যায়। রবীন্দ্রসংগীত ও বাংলা আধুনিক গানে তাঁর কণ্ঠে ছিল সংযম, গভীরতা আর নিখাদ আবেগের অপূর্ব মেলবন্ধন। চল্লিশের দশকের শেষ ভাগে সলিল চৌধুরীর সুরে গাওয়া তাঁর গানগুলো শ্রোতাদের মনে এক নতুন ভাষা সৃষ্টি করে। পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রাপ্তি ছিল তাঁর শিল্পসাধনার এক স্বীকৃত চিহ্ন।

১৯২৭ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয় ১৯৪৪ সালে। ১৯৪৫ সালে মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানি থেকে প্রথম গান রেকর্ড করেন তিনি। প্রায় দেড় হাজার গানের মধ্যে প্রায় আটশোটি রবীন্দ্রসংগীত—সংখ্যার চেয়েও যার মূল্য গভীরতায়, নিষ্ঠায় ও শুদ্ধতায়।

আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে মনে পড়ে সেই পঙ্‌ক্তিগুলো—

“এক দিন ফিরে যাব চলে

এ ঘর শূন্য করে, বাঁধন ছিন্ন করে

যদি চাহ যেও ভুলে”

তিনি ফিরে গেছেন বটে, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ—ভুলে যাওয়ার নয়। সুরের আকাশে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় আজও এক নীরব, দীপ্ত নক্ষত্র।